শতাব্দীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পড়ার সম্ভাবনা

0 ৭২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরই মধ্যে রেকর্ড ৯ কোটিরও বেশি আগাম ভোট পড়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএস ইলেকশনস প্রজেক্ট এই তথ্য দিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগাম ভোট পড়েছে ৯ কোটি ১০ লাখ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বলছে, ভোটের জন্য নির্ধারিত তারিখের আগেই শনিবার পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোট প্রয়োগের ঘটনা দেশটিতে এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এবারের আগাম ভোটের সংখ্যা মার্কিন জনগণের আগ্রহেরই প্রমাণ।  শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ আগাম ভোট পড়েছে, তা ২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ভোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদিবসে নির্বাচন হওয়ার কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাবার ভয়ে সশরীরে ভোট দিতে পারেন না।  কাজের সূত্রে দূরে থাকার কারণেও কারও কারও ভোট দিতে সমস্যা হয়। এমন সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সেদেশে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।  এ বছর করোনা সংকটের কারণেও বিপুল সংখ্যক ভোটার সেই সুযোগ গ্রহণ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চার বছর আগে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের প্রেসিডেন্সির লড়াইয়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ভোট পড়েছিল; এবার তা সহজেই ছাড়িয়ে যাবে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের। গতবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছিল মাত্র ৪ কোটি ৭০ লাখ।  দেশটির ২০টি অঙ্গরাজ্যের দলীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ১ কোটি ৯৯ লাখ ডেমোক্র্যাট ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানের সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ।

জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেন প্রায় ১০ শতাংশ এগিয়ে আছেন। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান কম হওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীর সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

বিজয় নিশ্চিতে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্প:   সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে গতবারের মতো এবারও চমক দিতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রচারে এখন তাই মরিয়া ট্রাম্প শিবির। এ লক্ষ্যে রোববার থেকে দুই দিনের ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণায় নেমেছে তারা।

শেষ মুহূর্তে মূলত ব্যাটলগ্রাউন্ড বা দোদুল্যমান হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। গত শনিবার পেলসিলভানিয়ায় চারটি সমাবেশে অংশ নেন তিনি। রাজ্যটিতে এখনও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থাকার লড়াইয়ে রবিবার থেকে প্রচারাভিযান আরও জোরদার করেছেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হতে ব্যর্থ হলে ১৯৯২ সালের পর ট্রাম্পই হবেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে না পারা প্রথম ব্যক্তি। এর আগে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল। নির্বাচনি প্রচারে করেনা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। রবিবার পেনসিলভানিয়ায় প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগের দিনই সেখানে একাধিক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। মার্কিন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত রাজ্যগুলোর একটি এই পেনসিলভানিয়া।

গতকাল রোববার ও আজ সোমবার প্রতিদিন পাঁচটি করে দুই দিনে মোট ১০টি সমাবেশ করবেন ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত পুরো প্রচারণার সবচেয়ে ব্যস্ত সময় যাবে এই দুই দিন। গতকাল রবিবার মিশিগান, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় কর্মসূচি রয়েছে ট্রাম্পের। সোমবার নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া, উইনসকনসিন ও মিশিগানের দুইটি ভেন্যুতে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের নির্বাচনে এরইমধ্যে সাড়ে আট কোটিরও বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। দৃশ্যত আগাম ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই জো বাইডেন-এর সমর্থক। তবে ট্রাম্প শিবির চাইছে, ভোটের দিন যেন কেন্দ্রগুলোতে ট্রাম্প সমর্থকদের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে। এজন্য সেদিন সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় তারা।

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।