লকডাউনে বুনোফুলে প্রফুল্ল পাহাড়ি প্রকৃতি

0 ৪৫

আলোকিত লংগদু

বুনোফুলে সেজেছে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল।

ছবি: বেঙ্গল ডিসকাভার

করোনা ভাইরাসের লকডাউনে বাংলাদেশের হ্রদ, পাহাড় ও অরণ্যের শহর পার্বত্য রাঙামাটি এখন পুরোপুরি নিস্তব্ধ। নেই মানুষের ব্যস্ততা ও কোলাহল। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষও এখন ঘরবন্দী। কিন্তু থেমে নেই প্রকৃতি, চলছে নিজস্ব নিয়মে। তাই তো পাহাড়ে ফুটে চলেছে হরেক রঙ ও রকমের বুনোফুল। যা প্রকৃতিকে করে তুলছে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত।

রাঙামাটির আসামবস্তী কাপ্তাই সড়কের মগবান এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার পাশে পাহাড়ি টিলায় ফুটে আছে ভাটফুল (চাকমা ভাষায় বিজু ফুল), লিলি ফুল ও ভুই চাঁপা ফুল ও আঙ্গর পাতা ফুল (ওষুধি গাছ)। নয়নাভিরাম ফুলের সমাহার চোখে পড়ার মতো। যা এ পথে চলাচলকারীদের বিমোহিত করে। পাহাড় জুড়েই ফুটেছে এই বুনোফুল।

মগবান ইউনিয়নের বরাদম এলাকার চিক্কো চাকমা বলেন, প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষে এবং বৈশাখে পাহাড়ে এই ফুল ফুটে। সাধারণত আমরা এগুলোকে বিজু ফুল বলে ডাকি।

রবিলাল তঞ্চঙ্গ্যা নামের আরেকজন বলেন, এই ফুলগুলো দিয়ে আমরা ফুল বিজু পালন করি। ফুলগুলো দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। এ গাছ লাগানো বা পরিচর্যাও করতে হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাহাড়ি উঁচু-নিচু কাপ্তাই সড়কে পাখিদের কলরব ও বুনো ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ মন-প্রাণ জুড়িয়ে দেয় চলাচলকারীদেরও। নুকু চাকমা বলেন, পাহাড়ি বাসিন্দাদের বড় সামাজিক উৎসবের (বৈসুক, সাংগ্রাই, বিজু) সময়ে ফোটা ফুলগুলোকে বিজু ফুল, সাংগ্রাই ফুল বা বৈসু ফুল হিসেবে ডাকা হয়।

”ফুলগুলোর আলাদা মহিমাও আছে। কারণ ফুলগুলো দিয়ে ফুলবিজু করা হয়, বিজু পালন করা হয়,” উল্লেখ করেন নুকু চাকমা।

ফুলগুলো কেবল পাহাড়েই হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের সিলেটের টিলা এবং ময়মনসিংহের গাড় পাহাড়েও ফুটে এই ফুল। সংস্কৃতিকর্মী ঝুলন দত্ত বলেন, এই ফুল আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভিন্ন ভিন্ন ঋতুর উৎসবের কথা।

”পাহাড়ি ফুলগুলোর কোন বৈজ্ঞানিক নাম জানা নেই। তবে আমরা বিজু ফুল হিসেবে বলে থাকি,” বলেন রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা।

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।