মহানবী (সা.)কে কটূক্তি: ভারতের রাঁচিতে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে নিহত ২

৭২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে ঝাড়খন্ড প্রদেশের রাঁচি শহরে সহিংসতায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য ওয়্যার এ তথ্য জানিয়েছে।

দ্য ওয়্যার বলেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে হাজার হাজার মুসল্লি বিক্ষোভে রাঁচির ডেইলি মার্কেট এলাকার প্রধান সড়কে নামেন। একসময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।

রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষে আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার পর মারা গেছেন। এ ছাড়া আহত আরও ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান সড়কের ইকরা মসজিদ থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে অবস্থিত হনুমান মন্দিরের কাছে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়তে শুরু করলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালাচ্ছে।

সংঘর্ষে সিনিয়র পুলিশ সুপার সুরেন্দ্র কুমার ঝা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর রাঁচির প্রধান সড়ক, ডেইলি মার্কেট এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা রাঁচিতে দুটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। একটি ছিল দোরান্দা রাসলাদারবাবার মাজারের কাছে। আরেকটি ইকরা মসজিদের কাছে। প্রথম সমাবেশটি মাজার থেকে রাজেন্দ্র চক পর্যন্ত মিছিলে পরিণত হয়েছিল। আর দ্বিতীয়টি ছিল শুধুই মানববন্ধন।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ইকরা মসজিদের কাছে শুধু মানববন্ধন করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু হঠাৎ পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সরেজমিনে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিআইজি অনীশ গুপ্ত বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নগরীতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

মন্তব্য বন্ধ আছে তবে ট্র্যাকব্যাক ও পিংব্যাক চালু রয়েছে।