মরা মুরগী বিক্রির অভিযোগ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে

0 ৫১৬

মো. গোলামুর রহমান।।

দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে অধিক মুনাফা লুফে নেয়ার চেষ্টায় মগ্ন সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। তারা মানুষের বিশ্বাস ও সরলতাকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে যাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। ঠিক এর ব্যাত্যয় ঘটেনি লংগদুতেও। ঘটেছে মৃত মুরগীর মাংস বিক্রি করার মতো ঘটনাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পবিত্র মাসেও থেমে নেই এক অসাধু পল্ট্রি ব্যবসায়ী। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগী মারা গেলে, ওই মুরগী ফ্রিজে রেখে ক্রেতাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছেন তিনি। এমনই অভিযোগ উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদুর গুলশাখালী ইউনিয়নের চৌমুহনী পল্ট্রি বিক্রেতা মোকসেদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোকসেদ দীর্ঘদিন ধরে ব্রয়লার মুরগীর ব্যবসা করে আসছে। অধিক তাপদাহে কিছুদিন যাবত তার মুরগীগুলো অসুস্থ ও মারা যাওয়ায় সকলের অগোচরে সে জবাই করে ফ্রিজে রেখে দেয়। সেখানে তা পঁচন ধরে যায় সেগুলো পরিষ্কার করে আবার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। রোজার মাসে এমন অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না বলে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে ব্রয়লার ব্যবসায়ী মোকসেদ মুঠোফোনে জানান, মুরগীগুলো যখন অসুস্থ হয়ে মারা যায়, তখন যিনি পরিষ্কার করে তাকে বলি ফেলে দিতে। কিন্তু যখন ফ্রিজ থেকে মুরগী গুলো বের করি, তখন লোকজন দেখে বলে আমি মরা মুরগী বিক্রি করি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মেয়ের জামাই বাড়িতে আসবে তাই দুইটা মুরগী জবাই করে ফ্রিজে রাখি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পঁচন ধরে যায়।আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মৃত মুরগী বিক্রি করিনি। স্থানীয় এক পাহাড়িকে আমি এমনিতেই দিয়েছিলাম। তিনি আরো জানান, মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমাকে গুলশাখালী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এমন কর্মকান্ড আর কখনো হবেনা মর্মে মুচলেকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ চান মিয়া জানান, ফাঁড়ি পুলিশ তাকে মরা ব্রয়লার মুরগী বিক্রয়ের অভিযোগে ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিলে আমি তাকে নিয়ে আসি।

গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সত্য, আমার কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। পরে গুলশাখালী ফাঁড়ি পুলিশ তাকে অভিযোগের ভিত্তিতে ধরে নিয়ে যায় এবং পরে মুচলেকার মাধ্যমে তাকে আমাদের হেফাজতে ছেড়ে দেয়।

এদিকে পবিত্র মাসেও এমন জঘন্য কাজ করায় বিচারের দাবী জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক ও সচেতন মহল।

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।