আজ লংগদু রাজনগর গনহত্যার ৩৮ বছর।

0 ৫৬

উপ সম্পাদকীয়:
আজ লংগদু রাজনগর গনহত্যার ৩৮ বছর।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঠিক ১১ বছর পূর্বে রাজনগর গণহত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সামরিক শাখা তথাকথিত শান্তিবাহিনী।

১৯৮৬ সনের ৪-ই জুন ভোর রাত্রে নিরস্ত্র বাঙ্গালী নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বধীন শান্তিবাহিনীর হায়েনারা৷ শান্তিবাহিনীর সদস্যরা গুলি করতে করতেই বাঙ্গালী গ্রামে প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই আগুন ধরিয়ে দেয় বাঙ্গালীদের ঘর বাড়িতে। এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় ৫০ টি বসতঘর৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক কিছু।

স্থানীয়রা জানান, ৩ জুন রাত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ৪জুন ভোর রাত্রে শান্তিবাহিনীর গুলিতে ১১ জন নীরিহ নারী-পুরুষ ও শিশু গণহত্যার শিকার হয়।

গণহত্যায় নিহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-
(১) মো. ওমর আলী (৪৫)
(২) বেগম ওমর আলী (৩০)
(৩) আব্দুল মালেক (৭), পিতা ওমর আলী
(৪) ফাতেমা বেগম (৪), পিতা ওমর আলী
(৫) মালেকা বানু (২৮), স্বামী খৈয়র উদ্দিন
(৬) নিলুফা আক্তার (১), পিতা খৈয়র উদ্দিন
(৭) এরশাদ আলী মুন্সী (৬৫), পিতা নছরদ্দিন ফকির
(৮) রেজিয়া খাতুন (২৫), স্বামী হাফিজ উদ্দিন
(৯) আজিজুল ইসলাম (১০), পিতা হাফিজ উদ্দি
(১০) আলিমন বিবি (২৪), পিতা আব্দুর রহমান
(১১) জামেলা খাতুন (২২), স্বামী সমর আলী

শান্তিবাহিনীর হাতে নিহত হওয়া সদস্যের পরিবার গণহত্যার ৩৮ বছরেও বিচার পায়নি। কোনপ্রকার ক্ষতিপূরণ পায়নি। লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রাজনগর এখনো রয়েছে গণহত্যায় নিহত ব্যক্তিদের গণকবর। চোখে পড়ে গণকবরটি। একসময় এই নিয়ে প্রতিবাদ হলেও কয়েকবছর ধরে দামাচাপা পড়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, লংগদুতে আরো বড় ৩ গণহত্যা থাকার কারণে এই গণহত্যার স্মৃতি কেউ মনে রাখেনি। এই গণহত্যায় এক পরিবারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। স্মৃতি সংরক্ষণে রাজনগর জোন এগিয়ে আসেন। তারা শাহাদাৎ বরণকারী ব্যক্তিদের নামের তালিকা স্মৃতি সংরক্ষণ করেন।

এই গণহত্যায় জড়িত সন্তু লারমা ও তার সংগঠন জেএসএস দায়মুক্তি পেয়ে পাহাড়ে আরো বাঙ্গালী হত্যা, অপহরণ ও খুন-খারাবির সঙ্গে জড়িত আছে। পাহাড়ে এই সন্ত্রাসীদের বিচার করার কেউ নেই। নিহত পরিবারগুলো এখনো ৪ জনু আসলে স্বজন হারানোর বেদনায় চোখের জল ফেলে।

এসঅর ফাইটার রাঙ্গামাটি

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।