লংগদুতে ব্রি ধান-১০৩ এর কমিউনিটি বীজ উৎপাদন প্রদর্শনীর ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশনের শুভ উদ্বোধন

0 ১৩২

আরাফাত হোসাইন বিল্লাল।।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় “ব্রি ধান-১০৩” এর কমিউনিটি বীজ উৎপাদন প্রদর্শনীর ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেকনিক্যাল নলেজ ছড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এ ওরিয়েন্টেশনের মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনিরুজ্জামান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙামাটি। তিনি বলেন, “ব্রি ধান-১০৩ হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প মেয়াদি একটি জাত, যা পাহাড়ি এলাকা ও বৃষ্টিনির্ভর কৃষির জন্য খুবই উপযোগী। কমিউনিটি বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকেরা নিজেরাই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সক্ষম হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লংগদু উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি পার্টনার প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, পার্টনার প্রকল্প,মোহাম্মদ ওয়াসিফ রহমান, লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসার,মোঃ ইসরাফিল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার,রতন চৌধুরী, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা,মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সহ অন্যান্যরা।
ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদেরকে ব্রি ধান-১০৩ এর বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া, জমি প্রস্তুতি, সঠিক সময়ে বপন ও রোপণ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ফসল সংগ্রহ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের সরাসরি জমিতে প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখানো হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) কর্তৃক উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১০৩ একটি স্বল্পমেয়াদি (১০৫–১১০ দিন) জাত, যার ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ৭–৮ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। জাতটি ধানচাষে আগ্রহী কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় এর উৎপাদনক্ষমতা উল্লেখযোগ্য।পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক এই প্রকল্পটি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। পার্টনার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ।

উল্লেখ্য, লংগদুর মতো দুর্গম এলাকায় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সরকারের আন্তরিকতা ও অংশীদার প্রকল্পের যুগপৎ প্রচেষ্টায় এখন সেখানকার কৃষকরাও আধুনিক কৃষির সুফল পাচ্ছেন বলে মনে করছেন সবাই।

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।