দৈনিক আলোকিত লংগদু’র শোক বার্তা প্রকাশ

0 ৭২

শোক বার্তা

প্রিয়,
লংগদুবাসী ও দৈনিক আলোকিত লংগদু.কম এর পাঠক ও শুভকাঙ্খীবৃন্দ,
দৈনিক আলোকিত লংগদু.কম পরিবারের এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই সগ্রামী সালাম ও শুভেচ্ছা। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদত বরণ করেন। আজ বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী। দৈনিক আলোকিত লংগদু.কম পরিবার এ দিনে শোকাহত চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা জানাই মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি। জাতীয় শোক দিবসে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সে-দিনে

র সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডি নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ হন। একই সাথে শহিদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টু। এ ঘটনা কেবল বাঙালির ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা নয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা এবং পরাজিত শক্তিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। তাঁরই নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করে বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৮-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনসহ এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি জাতিকে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য তাঁকে বহুবার কারাবরণসহ অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে এদেশের জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মূলত, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। তাই ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও নীতিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। এ দেশ ও জনগণ যতদিন থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এদেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।

আসুন, জাতীয় শোক দিবসে আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

এম এ আমিন
সম্পাদক
দৈনিক আলোকিত লংগদু.কম
লংগদু রাঙ্গামাটি পার্বত্যজেলা

আপনার ইমেইল প্রদর্শন করা হবে না।