উপজেলায় জন্মের ৮ ঘন্টা পর তিন শিশুর মৃত্যু

৭৬
আরমান খান
রাঙামাটির লংগদুতে এক সাথে জন্ম নিয়েছিলো তারা। মঙ্গলবার সকালে এক মায়ের কোল আলো করে জন্ম নেয়া তিন শিশু সন্ধ্যার আগের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে ! সকাল আটটায় জন্ম নেয়ার পর বিকাল চারটার মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে প্রয়োজনীয় ওজন না থাকা জনিত অসুস্থতায়। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমূখের রাবেতা হাসপাতালে এক প্রসূতি মা একসাথে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন । উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের গাউসপুর এলাকার পারুল বেগম ও আবু সাইদ দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নিলো এ তিন শিশু। শিশু তিনজন এবং তাদের মা সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবু তালহা।
কিন্তু স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশু তিনটির শ্বাশুকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে এবং নেয়ার পর  মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ডা: তালহা।
ডা. আবু তালহা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা নিয়ে প্রসূতি পারুল বেগম হাসপাতালে আসলে আমরা তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করি। তখনই বুঝতে পারি প্রসূতির গর্ভে তিনটি শিশু আছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫০মিনিটে সফলভাবে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। নবজাতক শিশুদের ওজন কম হওয়ায় তাদেরকে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে নেয়ার পথে দুইজন এবং পরে আরেকজন মারা যান বলে জেনেছি।
এই চিকিৎসক জানান, স্বাভাবিক একটি শিশুর জন্মের পর তার ওজন ২৫০০ গ্রাম হলে আমরা তাকে সুস্থ হিসেবে ধরি,অনেকক্ষেত্রে ওজন একটু কমবেশি হতেও পারে। তবে এই শিশু তিনটির ওজন প্রায় ৮০০/৯০০ গ্রামের বেশি ছিলো না। বিষয়টি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আমরা উন্নত সাপোর্টের জন্য দ্রুত খাগড়াছড়ি রেফার করেছিলাম। কিন্তু…….। কি আর করা।’
এর আগে তিন শিশুর জন্ম হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন  চিকিৎসক ডা.আবু তালহা। তিনি তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। জীবনে এই প্রথম রাবেতা হাসপাতালে এক প্রসূতি মায়ের ৩ বাচ্চার নরমাল ডেলিভারি। গত কালকে যখন আল্ট্রাসনোগ্রাফি করি তখনই আমার এক অন্যরকম অনুভূতি হইছিল ৩ বাচ্চা দেখে। আরও আবাক হয়েছি যখন দেখি ৩টি বাচ্চাই ছেলে বাচ্চা। আজ সকাল ৭.৫০ এ তাদের এই বিষন্নতায় ভরা পৃথিবীতে আগমন ঘটে।’
শিশু তিনটির মৃত্যুতে বিষাদে ভেঙ্গে পড়েছেন তাদের পরিবার। শোকাহত অসুস্থ মাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মন্তব্য বন্ধ আছে তবে ট্র্যাকব্যাক ও পিংব্যাক চালু রয়েছে।